কেন এই পাতা

পানুর ইচ্ছা, লেখক হইবেন । বাঙালি, লেখক না হইতে পারিলে নমো নমো করিয়া পাতের সংস্থান যদি বা হয় জাত রক্ষা হয় না - যথা আঁটকুড়া কুলীন । পানু বিস্তর পরিশ্রম করিলেন । দিস্তা দিস্তা রচনাবলী, অমনিবাস চিবাইলেন । প্রথমে কাব্য টানিয়াছিল, কারণ রস - রসে পাঁউরুটি ভিজিল না । পানু ঘটা করিয়া কিছুদিন রবীন্দ্রসঙ্গীত লিখিলেন (ভেঙ্গেছ দুয়ার এসেছ জ্যোতিরম্যায়, আট হাজার বাষট্টি টাকার দরজা, খর্চা কে দ্যায় ! অথবা, কতবার ভেবেছিনু আপনা ভুলিয়া, চৌমাথার মোড়ে দিব পেন্টুল খুলিয়া) হাউ হাউ করিয়া লোকে মারিতে আসিল । সমস্ত অবজ্ঞা করিয়া পানু লিখিয়া চলিলেন । যদ্যপি পানুর কলমের তোড়ে কাব্যলক্ষী কোঁ কোঁ, সম্পাদকের দপ্তরে চিঁড়া ভিজিল না । অতঃপর পানুর দুঃখে ব্যাবেজ সায়েব কম্পিউটার আবিষ্কার করিলেন । বাজারে ব্লগ আসিল । পানু ব্লগার হইলেন । এই পাতা পানুর পাতা । যা তা ।

Sunday, February 19, 2012

কিছুক্ষণ মৃত্যু এসে বসে রয়েছে খাটের পাশে ইজিচেয়ারে
তার এক তোলা পায়ে আঙুরলতা, হাজার কাঁটার বনান্তরী
কিছুক্ষণ অন্তত একদিন মরে যাবার হয়তো আগে
তাকে দেখা যায়, দেখতে পায় কেউ অনেকে


একটা অনুষঙ্গ আমাদের প্রাপ্য
শেষমেষ যার নাম হয়তো নির্জনতা
হয়তো জরুরী অবস্থা
হয়তো
শৈশবের বাড়ি, সারাজীবনের বাড়ি
বসার ঘরের ফাটল
ছাই ভেদ করে কইমাছের কানকো
পরিচিত বিপন্নতাগুলো
আলোকিত খানিকটা অবস্থা
যা যন্ত্রণার, টনটনে প্রতিক্রিয়াময়
এরপরও অন্ধকার থাকে
শব্দের আসল স্বরূপগুলি
স্বরূপের পালকেরা
পড়ে থাকে নির্মম মাঠে


একটা স্বান্তনা আমাদের প্রাপ্য হয়ে ওঠে
ভুলে যাওয়ার মত অন্তর
মৃত্যুকে একটা অবস্থান ভেবে নেবার মত ভুল
--
একটা ভুল চিনিয়ে দিচ্ছে
পরবর্তী ভুলকে
তবে, ভুলও একটি ইন্দ্রিয়
যে হাসির মধ্যে দিয়ে
আক্ষেপের মধ্যে দিয়ে
শৃংখলাকে বুঝে নিতে চায়
দৃশ্যময় ও সাদৃশ্যময়
পরিচিতিগুলোর দিকে হাত বাড়িয়ে দেয়
ছ্যাঁকার সম্ভাবনাকে অগ্রাহ্য করে
--
ভুলও কী একধরণের বিশ্বাস তবে
বা বিশ্বাসও কী একধরণের ভুল
যা আছে তাই আমরা আছি
বা যা আছে তাই আমরা নেই

আমাদের নির্জনতাগুলো
চেয়ে থাকে শাদা ও বন্ধুর এক পৃথিবীর দিকে
যার কোন আবরণ নেই
আবরণের লেশমাত্র নেই
--
ঘুম ভেঙ্গে গেলে লক্ষ্য করি
শাদা এপ্রন পরে
আমাদের পরীক্ষাগুলো
আমাদের নেড়ে চেড়ে দেখছে
আমাদের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে কথা বলছে
অস্ফুট গলায়
সেসব অস্পষ্টতার মধ্যে
সৌজন্য থাকে-- আমাদের পরীক্ষার দিনে
যে সৌজন্য কোথাও ছিল না

হাত গুটিয়ে ফেলার মত
ভয় পাওয়ার মত
এক টুকরো
শেকলও আর পড়ে থাকে না ।
--
আর যন্ত্রণার কথা মনে পড়ে
দুঃখ হয়
পুরোন যন্ত্রণাকে ফিরিয়ে আনা যায় না
অনুভূত করে নেওয়ার মত অবশিষ্ট কিছু নেই
নতুন একটা যন্ত্রণার জন্য দাঁতে দাঁত চেপে
অপেক্ষা করি
সংস্থাপনের জন্য
ক্রিয়াশীল ছায়াগুলো সুলভ্য হয়
চোখের নীচে
খেলা করে
--
ধরে নেওয়া ভাল
ব্যবস্থা একটি তরল অবস্থা মাত্র
বিশ্বাসের জমাটতা থেকে যে নিজেকে ছাড়িয়ে আনে
তার পর নিশ্চেষ্ট বসে থাকে
অ্যাকোয়ারিয়ামের দিকে মুখ করে
প্রতীত হয়ে ওঠে ঝিঁঝিডাক
যা সাকুল্য
বিশ্বাস ও অবিশ্বাস দুয়েরই
--
এরপর অবশ্যম্ভাবী হয়ে ওঠে
আমাদের বেড়ে ওঠা
পুরষ্কার ও শাস্তির দিকগুলো চিনে ফেলা
না-না স্ট্রেসর-এর পরিপ্রেক্ষিতে
আয়ত্ত করা বূহ্যভেদের কৌশল
সন্তরণক্ষমতা

আমাদের দৃষ্টির অগোচরে
আমাদের সমস্যারা
দাঁড়িয়ে থাকে শাদা এপ্রনে
নোটবুকে টুকে নেয়
আমাদের যতটুকু
পরিমাপযোগ্য

No comments:

Post a Comment